ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ্ মাঠে অজুখানার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বাস্তব ও যৌক্তিক—এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। ঈদের নামাজ আদায়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ সাধারণ মুসল্লিকে অজু ও ইস্তিঞ্জার জন্য যে ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তা আমাদের সবারই জানা। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য মাঠ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
ইতোমধ্যে শোলাকিয়া গরুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় টয়লেটের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তবে বর্তমানে যে বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হলো—শোলাকিয়া ঈদগাহ্ মাঠের একেবারে মাঝ বরাবর গর্ত করে সেখানে যদি অজুখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে মাঠের ঐতিহাসিক সৌন্দর্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ঈদের নামাজের সময় মুসল্লিদের মনোযোগ ব্যাহত হওয়ার মতো কোলাহলও সৃষ্টি হতে পারে।
যদি সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার কথা ভেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সাধারণ মুসল্লিদের মতামতকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকাবাসীসহ বহু মানুষ এই বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। অধিকাংশের অভিমত হলো—ঈদগাহ্ মাঠের ভেতরে এভাবে অজুখানা নির্মাণ তারা সমর্থন করেন না।
অজুখানা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে এর জন্য মাঠের বাইরে বিকল্প ও উপযুক্ত স্থান রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ—পুকুরপাড় এলাকায়, অথবা পুকুরপাড়ে বর্তমানে যেখানে পানির ট্যাংক রয়েছে, সেই স্থানটি এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব স্থানে অজুখানা নির্মাণ করলে মুসল্লিদের সুবিধা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ্ মাঠের সৌন্দর্য ও মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আর যদি শুধুমাত্র পানি নিস্কাশনের উদ্দেশ্যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়ে থাকে এবং ড্রেনের ওপর স্ল্যাব দেওয়া থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপত্তির তেমন কোনো কারণ নেই বলে আমরা মনে করি।
আমরা আশা করি, শোলাকিয়া ঈদগাহ্ মাঠের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুন্দর, টেকসই ও সম্মানজনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
শোলাকিয়া ঈদগাহ্ মাঠের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
তামজিদ আহমাদ
সাধারণ মুসল্লি
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ্
কিশোরগঞ্জ

