কোরআনের নির্দেশে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষাপট দিয়া উদ্দীন রাকিব
এ কথার শুরুতে স্মরণ করছি মহান আল্লাহর একটি বাণী, যেখানে তিনি বলেন,
“নিশ্চই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, আমানত যথাযথ স্থানে পৌঁছে দাও এবং যখন মানুষের মাঝে বিচার করো, ন্যায় বিচার সহকারে বিচার কর।”
(সূরা নিসা : ৫৯)
একটি আমানত তার সঠিক স্থানে পৌঁছে দেওয়া একটি বিচারের অংশ। এখন আল্লাহ কোরআনে যে আমানতের কথা বলেছেন, সেটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং ইসলামী জীবনপদ্ধতি। আমরা আল্লাহর দ্বীনের খলিফা। আমরা ভুলেই গেছি আমাদের খেলাফতের দায়িত্ব, যা আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন,
“কোরআনের বিধান অনুযায়ী বিচার করতে হবে।” (সূরা মায়েদা : ৪৮)
আল্লাহ কোরআনে প্রতিটি পাতাকে বিচারের পাতা হিসেবে প্রস্তুত রেখেছেন। আর শুধু আমরা এর ব্যবহার জানি না। আজ সমাজব্যাপী পাশ্চাত্যের নগ্ন সংস্কৃতির মহামারি ছড়িয়েছে। ব্যভিচার হচ্ছে। আল্লাহ কোরআনে তাদের নিয়েও একটি আইন স্থাপন করেছেন:
“ব্যভিচারিণী নারী ও পুরুষ—প্রত্যেককে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে।” (সূরা নূর : ২)
আমরা আল্লাহর বান্দারা যেন কোরআনকে মিথ্যা না মনে করি, তাই তিনি বলেন:
“আল্লাহ সত্যসহ এ কিতাব নাযিল করেছেন।” (সূরা মায়েদা : ৪০)
বর্তমান যুগের মানুষ তার উপর-অর্পিত দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে। পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি দেশে এক মহামারিতে রূপ নিয়েছে। আজ দেশের তরুণ ও তরুণী সমাজ অন্ধকারের দিকে ঝুঁকছে। হয়তো তারা পরকালকে ভুলে গেছে। আল্লাহ কোরআনে বলেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং লক্ষ্য করো যে, আগামীকাল (আল্লাহর সামনে) কী আমল-নামা পেশ করতে যাচ্ছো।” (সূরা আল-হাশর : ১৮)
এই যুগে তরুণ সমাজ কোরআন পড়া ছেড়ে দিয়েছে। মনে রাখো, জাতীয় পাঠ্যবই বাস্তব জীবনের পড়াশোনার জন্য নয়, বরং সুস্থ মন ও মানসিকতার জন্য কোরআন পড়ার প্রয়োজন।
কোরআনের আলোকে বিচার ব্যবস্থা:
আল্লাহ চান কোরআনের আইন বাস্তবায়িত হোক। তিনি চান এই দুনিয়া চলুক কোরআনি ব্যবস্থায়। তাই তিনি বলেন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা সম্পূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।” (সূরা বাকারা : ২০৮)
এই আয়াতে আল্লাহ প্রতিটি মুমিন মুসলমানকে বলেন, যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের সূত্র অনুসরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন:
“তবে তুমি তাদের মাঝে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারই মাধ্যমে বিচার কর।” (সূরা মায়েদা : ৪৮)
আল্লাহ কোরআনে বলেন ‘তবে তুমি তাদের মাঝে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন’। মানবজাতির মধ্যেই তিনি উত্তরণের পথ রেখেছেন, আর সেই পথ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা আল্লাহ কোরআনে নির্ধারিত করেছেন।
সমাজে ন্যায় ও ধর্মনিরপেক্ষতার ইসলামী আদর্শ:
একটি দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান—সকল ধর্মই থাকবে। তবে আল্লাহর আইন সকলের জন্যই উন্মুক্ত। যেখানে একজন হিন্দু ন্যায় বিচার পাবে, যেখানে একজন ইহুদি ন্যায় বিচার পাবে, এবং যেখানে একজন খ্রিস্টান ন্যায় বিচার পাবে। ইসলাম শুধু ধর্ম নয়, এটি একটি আইন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি ধর্ম, জাতি, ও বর্ণ নির্বিশেষে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত।
যিনি বিচারক হবেন, তার হাতে থাকবে রায় দেওয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সকলেই ইসলামী রাষ্ট্র ও তার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সমান ন্যায্য অধিকারভোগী হবে।

