আজ ইসলামী দলসমূহের নানা মার্কার মত মিনার মার্কার স্লোগানেও আকাশ-বাতাস মুখরিত হতো। (মুফতি সাখাওয়াত হুসেন রাজী)
মসজিদের মিনারের মতোই সুউচ্চ ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার আসনে থাকতো এই প্রতীক। আকাবিরদের সম্মিলিতভাবে তৈরি করা প্লাটফর্ম ইসলামী ঐক্যজোটও থাকতো রাজনৈতিক আলোচনার তুঙ্গে। ফ্যাসিবাদ ও তার দোষরদের নগ্ন আঁচড়ে যেভাবে বর্ণিল হয়ে গেছে অনেক স্বপ্ন, সেভাবে খানখান হয়ে গেছে এ সংগঠন। পানির দামে নিলামে উঠেছে আকাবিরদের ত্যাগ ও কুরবানী।
৫ অগাস্টের পর মেরামতের চেষ্টা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখা প্রাচীন এই প্লাটফর্মটিকে। দল হিসেবে এটি নিবন্ধিত হওয়ার কারণে প্রয়োজন হয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক কমিটি অ্যাপ্রুভালের। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী নেতৃবৃন্দের আবেদনের বিপরীতে ফ্যাসিবাদের দোসররা একটা সুশীল অংশ দাঁড় করিয়ে আবেদন করায় নির্বাচন কমিশনে। আমরা কেয়ারফুলি বিষয়টি সমাধান করতে সক্ষম হই।
এর কিছুদিন পরে আরেকটা দরখাস্ত পড়ে নির্বাচন কমিশনে ফ্যাসিবাদের দোসর বহিষ্কৃত মহাসচিবের পক্ষ থেকে। আইনিভাবে আমরা সেটিরও মোকাবেলা করতে সক্ষম হই। অতঃপর নতুনভাবে বাধা সাধে সাবেক কমিটির স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান এবং নিজ কমিটি অ্যাপ্রুভালের আশায় দরখাস্ত করে অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিবের নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোট। এইভাবে কেটে যায় একটি বছর। প্রতিবন্ধকতার পর প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গাতে হয় আমাদের। অতঃপর ফাইনাল শুনানি শেষে এটিও এখন সমাধানের পথে। হয়তো দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের কমিটি অ্যাপ্রুভাল হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে বড় হতাশা চেপে বসে আমাদের মাঠ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে। অনেকে ঝুকে পড়ে অন্যান্য ইসলামী দলের দিকে।
সমমনা দলসমূহের প্ল্যাটফর্ম যখন গঠিত হয় তখন ইসলামী ঐক্যজোটের অপব্যবহার চলছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ইসলামী ঐক্যজোট পুনর্গঠনের পাশাপাশি আমরা সমমনাদের সঙ্গে লিয়াজু করার উদ্যোগ নেই। কিন্তু পরিবর্তিত অবস্থায় ‘ইসলামী ঐক্যজোট’ নামটি অনেক দলের কাছে অপছন্দের তালিকায় চলে যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে যথেষ্ট সম্পর্ক থাকলেও দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক কিংবা লিয়াজু করতে কৌশলে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
যাহোক, বিলম্ব হলেও ব্যক্তি সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে আমরা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করি এবং কিছু বিষয় একমত হই। যেখানে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের ঐক্যজোট ‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যারা ছিল তাদের ঐক্যজোট নয়’ — এটা বৈঠক শেষে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। সুযোগ তৈরি হয় সমমনাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির। কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সমমনা দলগুলোর পরস্পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে সমমনা দলগুলোর প্রতিনিধি লালবাগ এলে আমি তাদের একটি রূপরেখা তৈরির প্রস্তাব দেই — সমমনা দলগুলোর ঐক্য কতটা পথ চলতে পারবে? সমমনা দলগুলো কি শুধু নিজেদের ভেতর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করবে, না সামনে অগ্রসর হয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গেও সমঝোতা বা জোট করবে? কারণ তখন সমমনা দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি নানামুখী ছিল। ঐক্য তৈরি করে ভেঙে ফেলার চেয়ে ঐক্য না করাই ভালো — এমনটিই মনে হয়েছে আমার কাছে। কোনো রূপরেখায় ঐক্যমত না হওয়ার কারণেই কি আজকের এই অবস্থা নয়?
জামাতে ইসলামী এবং বিএনপি প্রশ্নে সমমনার অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আগে থেকেই তো দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা ছিল। অতঃপর দল ও ব্যক্তির দুর্বল অবস্থা বিবেচনায় রেখে নীরবতাকে আপন করে নেই।
তারপরেও একটা সমাধানে পৌঁছানো উচিত, যাতে আগামী রাজনীতিতে আমরা মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারি। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার তাওফিক দান করুন, আমীন!

