কওমি মাদ্রাসার ছেলেরা যেন কাঁচামাল,এদের খুব সহজে ব্যবহার করতে পারে আমাদের আলেম কুচক্রী মহল। সময়ে সময়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের ইচ্ছে হলেই সহজ সরল কওমিয়ানদের বুঝিয়ে সুজিয়ে অহেতুক বড় বড় মাঠে হাজির করে বিপরীত শক্তিকে লোকসমাগমের নজরানা দেখায়।
*
তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে আজকে খতমে নবুওয়াত সম্মেলনের নাম দিয়ে সোহরাওয়ার্দী ময়দানে। ধর্মপ্রিয় আলেমদের আবেগকে পুঁজি করে ফায়দা ঠিকই লুফে নিয়েছে সুযোগসন্ধানী কিছু অসাধু লোক। আদব ও আখলাকপ্রিয় কওমিয়ানদের শুরুতেই এই ডোজ দিয়ে দেওয়া হয় যে— বড়দের ( যারা বড় বড় পদ ভাগিয়ে বসে আছে) কোনো কাজে প্রশ্ন করা যাবে না। করলেই বিয়াদব, ধ্বংস, খারেজ, পথভ্রষ্ট।
*
তা না হলে এমন একটা অরাজনৈতিক মঞ্চে কেন বারবার অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দেখলাম, একটা ইসলামি রাজনৈতিক দলের প্রধান বুড়ো মানুষটা কীভাবে নিজের রাজনৈতিক ক্ষোভ – খায়েশের বিস্ফোরণ ঘটায়। জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় একজন আমন্ত্রিত গেস্টের সাথে সাপের মতো তেড়ে গিয়ে বক্তব্য বাধা দেয়। নূন্যতম সৌজন্যবোধ যে নেই, এটার বহিঃপ্রকাশ করে।
*
মধুপুরের পীর সাব একজন খালেস ঈমানের অতিদিলখোলা মানুষ। এজন্য একটু মাজবুর মনে হয় তাঁকে। তাঁর এই দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অসাধু লোকগুলো কী নিপুণভাবে অসাধুপনা করে গেল। অবাক হইনি। কারণ আল্লামা আহমদ শফির সর্বজনীন জনপ্রিয়তার সাথে বয়স্কপনাকে কাজে লাগিয়ে পূর্বেও বহু মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে।আজকের মঞ্চে উপস্থিত কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে পারি, মধুপুর হুজুরের সাথে তর্কাতর্কি করা হয়,যেন জামায়াত নেতা বক্তব্যে দাঁড়াতে না পারে। কিন্তু ব্যর্থ হয়। অথচ বিএনপির সালাহউদ্দিন সাহেবের বিদ্যুৎ তারের মতো তেলতেলা পেঁচানো বক্তব্যকে খুব গোগ্রাসে গিলতে পারে ওরা। ওইযে ক্ষমতার কলা।
*
আশ্চর্য হইনি, হারুন ইজহারের মতো কর্মেগুণে, নেতৃত্বে দেশের প্রথম সারির একজন আলেমকে সারাক্ষণ বসিয়ে রেখে বক্তব্য দিতে দেয় নাই। কারণ হারুন সাহেব তিক্ত বাস্তবতা অকপটে বলে ফেলেন। অথচ বহু চুনোপুঁটিকে বক্তব্যে গিয়ে সময় নষ্ট করতে দিয়েছে, তা স্বচক্ষে দেখেছি। বয়ানের কোয়ালিটি শুনে মাথার উপর তেতে ওঠা তপ্ত রোদের মতো হেসেছি। মনে মনে লজ্জাও পেয়েছি, ওঁৎ পেতে থাকা মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের সামনে একই কথা একই ক্ষেতিয়ান স্টাইলে দশজনকে বলতে শুনে। আশ্চর্য হইনি এই কারণে যে, এইসব মঞ্চে পূর্বকালে আতাহার আলীর সন্তান বিচক্ষণ ও আধুনিক মননের আযহার আলী আনোয়ার শাহকে বহুবার উপেক্ষিত হতে দেখে।
*
খতমে নবুওয়াতের মতো নবিজির শান রক্ষার মাহফিলেও ঠুনকো অজুহাতে কালেমার পতাকা অবদমিত হতে দেখে কষ্ট পেয়েছি। এই কাজগুলো নাকি করেছেন পরিণত বয়সের আমাদের কওমী পড়ুয়া তরুণ ভায়েরা। অপরের দমিয়ে রাখা এইসব নিজেদের স্বাধিকারকে নিজেরা দমন করার মতো ছোট মানসিকতা কবে দূর হবে জানি না। যদিও ভার্সিটির মতো বদ্ধ কারখানায় এসব বিষয় নরমালাইজ হয়ে গেছে প্রায়।
*
সমাবেশ থেকে আমি শ্রোতা নিরীহের মতো ফিরেছি এই ভাবতে ভাবতে যে— এদেশের আলেম সমাজের অন্তর, ঈমান, উদ্দেশ্য নির্ভেজাল না হওয়া পর্যন্ত এই জমীনে কক্ষণো সুদিন আসবে না।

