মাওলানা সাইফুল ইসলামের উপর সেনাবাহিনীর কোন একটা ইউনিটের কিছু সদস্য যে বর্বরতা চালিয়েছে -আমরা এটার নিন্দা না জানিয়ে রাখলে যুলমের বিরুদ্ধে আমাদের কমিটমেন্ট ভঙ্গ হবে, প্রমাণিত হবে আমরা শক্তিকে ভয় পেয়েছি।
শক্তিকে ভয় পাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার এখনই সময় বাংলাদেশের জনগণের।
এটা মনে করা মারাত্মক ভুল হবে যে এদেশের এলিটরাই সবকিছু, এবং নিরীহ শ্রেণী বা আলেম সমাজ ও ইসলামপন্থীদের কোন অভিভাবক নেই।
তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার পিছনে আর্মির সেন্ট্রাল নির্দেশনা ছিলো না – এটা আমি মোটামুটি নিশ্চিত হতে পেরেছি।
তাই সাইফুলের দুঃখজনক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মূল বাহিনীকে ক্রিমিনাল সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই।
সুযোগসন্ধানী নানা মহল একটা স্পর্শকাতর কনফ্লিক্ট উস্কে দিতে চাই, এটার বিষয়ে সাবধানতা জরুরি।
মাওলানা সাইফুলের প্রতিবাদী শব্দচয়নে যে মারাত্মক অসৌজন্যতা ও অসতর্কতা ছিলো এটা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন,এবং ক্ষমা চেয়েছেন।
সেনাবাহিনীর ঐ ইউনিটির সদস্যদেরও উচিত সাইফুলের পরিবারের কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সমবেদনা প্রকাশ করা।
তারা একটা নিষ্ঠুর বোকামি করছেন যা পুরো বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ব্যক্তির ভুলের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ভুলের দায়ভার বেশী। স্মার্ট রিঅ্যাকশন হতে পারতো মাওলানা সাইফুল থেকে একটা দুঃখ প্রকাশ করে ভিডিও বার্তা নেয়া।সভ্য দুনিয়াতো এভাবে চলে।
ইসলামপন্থী তরুণদের সতর্ক করতে চাই – তাওহীদবাদী দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ডাক না দেয়া পর্যন্ত অনলাইনের হৈচৈয়ে প্রভাবিত হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে হুটহাট করে মাঠে ময়দানে নেমে পড়া, এবং নামার পর হুঁশ হারিয়ে ফেলা একটা আত্মঘাতী প্রবণতা।
বিপ্লবী তরুণদের চেতনাকে নীতিগতভাবে সাধুবাদ, কিন্তু অসাংগঠনিক ও আনুগত্যহীন পথচলা পরিহারযোগ্য।
অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে সকল পক্ষের ভবিষ্যৎ পথচলা আশা করি আরো সুন্দর হবে।
সকলের জন্য প্রজ্ঞা ও শুভবুদ্ধির দুআ করি আল্লাহতা’আলার কাছে।

