ঢাকাFriday , 12 June 2026
  1. আর্ন্তজাতিক
  2. ইসলাম
  3. বিনোদন
  4. রাজনীতি
  5. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি হলো একটা ব্যর্থ আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ হলো একটা সফল বিএনপি

প্রতিবেদক
alhadi
June 12, 2026 4:57 pm
Link Copied!

চলমান কয়েকটি ইস্যু…
আজকে আমাকে ইনবক্সে মেসেজ করলেন একজন চিন্তাশীল আলেম-
“গানের শিক্ষক, রামের মূর্তি স্থাপন, ইসলামী ব্যাংক দখল এবং ইসলামী ব্যাংকিং থেকে আস্থা শেষ করাসহ একাধারে যা করছে-মাঠের লোকজনও নির্বিকার। মানুষ হাতাশ”।
প্রতিউত্তরে আমি একটু শ্লেষ মাখিয়ে বললাম-
আমাদের প্রিয় বিএনপি!
তিনি আবার রিপ্লাই করলেন-
“শুরুতেই যদি তারা পার পায়, বাকি পাঁচ বছর তো সামনে পড়েই আছে”।
আসলেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আবারো সে কথা মনে পড়ছে “বিএনপি হলো একটা ব্যর্থ আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ হলো একটা সফল বিএনপি”।
আওয়ামীলীগ যে সকল অপকর্ম করেছে কিংবা করতে চেয়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে ফ্যাসিবাদ মজবুত করার পর, বিএনপি সরকার সেটা করতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীন হওয়ার শুরুতেই।
এত এত ইস্যু যে কোনটা রেখে কোনটার কথা বলব।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মুরোদ নেই, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে একটা হ য ব র ল অবস্থা তৈরি করতে বিলম্ব করেনি। পরিস্থিতি যা দাড়িয়েছে, তাতে আশঙ্কা হচ্ছে অর্থনীতিতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার।
বিএনপির বোঝা উচিত জামাতকে খেয়ে হজম করা আওয়ামী লীগের পক্ষেই সম্ভব হয়নি, বিএনপি তো সেখানে নস্যি।
সন্দেহ নেই, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে জামাত সাংগঠনিকভাবে বেনিফিশিয়ারি, কিন্তু এটাও তো অনস্বীকার্য যে, ইসলামী ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় সাংগঠনিকভাবে জামাতের ভূমিকা আছে। নিজেরা তৈরি করে জামাত যদি বেনিফিট নিয়ে থাকে তাহলে তোমরাও নিজেরা কিছু সৃষ্টি করে বেনিফিট খাও। দেখি তোমাদের কতটুকু মুরোদ আছে।
ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাউর আছে-
এস আলম গ্রূপসহ অর্থপাচারকারী চক্রের হাতের দেশের ব্যাংকিং সেক্টর তুলে দেওয়ার ভয়াবহ চক্রান্ত চলছে। ইতিপূর্বে অন্যান্য ইসলামিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেউলিয়া করা হয়েছে। অবশিষ্ট ছিল শুধু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। সর্বশেষ সেটাও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি শিকার হবে। একদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভীত নড়বড়ে হয়ে পড়বে। আরেকদিকে ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর সমূলে নিপাত হয়ে যাবে। আর এর মাধ্যমে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করা হবে। ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন সহজ হবে।
ইতিমধ্যে ইসলামী ব্যাংকের শাখাগুলোতে যে ধরনের তারল্যসংকট ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে, তা বাংলাদেশের সচেতন মহলকে ইতিমধ্যেই শংকিত করে তুলেছে।
ব্যাংকিং সেক্টরসহ অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য চরম সংকটে পতিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর সাথে রয়েছে রেমিটেন্স প্রবাহের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল সংখ্যক যে রেমিটেন্সযোদ্ধা আছে, তাদের বিষয়ে আমি সন্দিহান যে, তারা কি ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে। আমার আশঙ্কা হয়, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার, এস আলম গ্রুপ ও অন্যান্য টানাপোড়েনে রেমিটেন্সের যে প্রবাহ শুধু ইসলামিক ব্যাংককেই নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, সেখানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক যে কোন অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশ বিরোধী ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী শক্তিকে শক্তিশালী করবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।
ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে সরকারের অতিমাত্রায় রাজনৈতিক চিন্তার বিষয়টি আলোচনায় উত্তাপ সৃষ্টি করার সময়ে আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়েও সরকারের সিদ্ধান্ত রাজধানী ও দেশের বৃহত্তর চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে। এখানেও অনেকে আশঙ্কা করছে, সরকার আওয়ামী কায়দায় রাজনৈতিক বিবেচনায় চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
একই সময়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গান-বাদ্য-নৃত্য বিষয়ক শিক্ষক নিয়োগের পাঁয়তারা ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করছে।
গাইবান্ধার শিবপুরে জনগণের যাতায়াতের পাবলিক সড়কে বিশালকায় মূর্তি নির্মাণের ইস্যু ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের অভ্যন্তরে বহির্দেশের সহযোগিতায় এই জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তা দেশের সর্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে বলে বোদ্ধামহলের আশঙ্কা।
মওদূদীর ইসলাম আর মদিনার ইসলামের সমীকরণ তৈরি করে বিএনপি কওমী আলেম সমাজ ও হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ করার একটা চেষ্টা চালায়। অথচ এই জাতীয় বিষয়ে তাদের আন্তরিক হওয়ার আদৌ কোন কারণ নেই। আওয়ামী লীগের মতোই নিছক রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে এরকম একটি সমীকরণ তারা দাঁড় করায়।
জামাতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার স্বার্থে কওমী আলেমদের মাথায় বন্দুক রেখে জামাতকে ঘায়েল করার রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি আঁটে। কওমী আলেম সমাজ একটু শক্তিশালী হয়ে উঠলে তাদের বিরুদ্ধে আচরণটা কেমন হয়, আওয়ামী আমলে সেটা আমরা দেখেছি। হেফাজত যখনই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে তখনই হেফাজতকে নির্মূল করার ক্ষেত্রে জামাতের মত একই বুলডোজার দিয়ে পিষ্ট করা হয়েছে। সিলেটের সর্বজনগ্রহনযোগ্য বাংলাদেশের কিংবদন্তি কওমী আলেম আল্লামা নুরুদ্দিন গহরপুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির ব্যাপারে
বিএনপি সাংসদ এম এ মালিকের ঔদ্ধ্যক্তপূর্ণ বক্তব্য সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। একজন গহরপুরী রাহিমাহুল্লাহ বাংলাদেশের কওমী আলেম সমাজের মাথার মুকুট। তার ব্যাপারে এমন কটু মন্তব্য আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতার দৌড়ে আপন বলতে কেউ নেই।
শেষ কথা হল বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিগুলো বরাবরই ইসলামপন্থীদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু আমরা চাই সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।