পাট-চিনি শিল্পের পর চামড়া শিল্পও কি ধ্বংসের পথে?
কুমিল্লার চাঁদিনা উপজেলার একটি মাদরাসা প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমী এক প্রতিবাদ দেখা গেছে। মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা কুরবানির পশুর চামড়া মাত্র ১০০ টাকা দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোনো ট্যানারি বা ক্রেতা তা কিনতে রাজি না হওয়ায় প্রতীকীভাবে চামড়ার “সমাধি” দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, কুরবানির মৌসুমে এতিমখানা ও মাদরাসাগুলোর অন্যতম আয়ের উৎস পশুর চামড়া। কিন্তু বছরের পর বছর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, মাত্র ১০০ টাকায় চামড়া বিক্রির প্রস্তাব দিয়েও ক্রেতা না পাওয়া বর্তমান বাজার ব্যবস্থার সংকটকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় দেশের রপ্তানি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত ছিল চামড়া শিল্প। কিন্তু মূল্য সংকট, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা, ট্যানারি খাতের নানা সমস্যা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির কারণে এ শিল্প তার সম্ভাবনা অনুযায়ী এগোতে পারছে না।
পাট ও চিনি শিল্পের মতো চামড়া শিল্পও যদি দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে, তবে দেশের অর্থনীতির জন্য তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চামড়ার এই প্রতীকী “সমাধি” তাই কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং একটি শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও বটে।

