মূল্যস্ফীতি হচ্ছে পণ্য বা সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হল স্বতন্ত্র পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি। এটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমন ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। সরকারী নীতি বা বর্ধিত চাহিদা।
যখন কোন দেশের সরকার কর্তৃক প্রচলিত অর্থের যোগান বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্তর বৃদ্ধি পায়। তখন তাকে অর্থ বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। সাধারণত সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অতিরিক্ত কাগজী নোট ছাপানোর ফলে এ ধরনের মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। যখন কোন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বিশেষ করে বানিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ বাজারে ছাড়ে তখন দামস্তর বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধিকে ঋণজনিত মুদ্রাস্ফীতি' বলা হয় ।
আপনি কি জানেন মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি কি। মূল্যস্ফীতি হচ্ছে পণ্য বা সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হল স্বতন্ত্র পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি। এটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমন ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। সরকারী নীতি বা বর্ধিত চাহিদা। আর মুদ্রাস্ফিতি হল যে অর্থনীতিতে মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া কে মুদ্রাস্ফীতি বলে । আবার মুদ্রাস্ফীতি বলতে বোঝায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়াকে। যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে।
[caption id="attachment_484" align="alignnone" width="300"]
মুদ্রাস্ফীতি[/caption]
মুদ্রা সরবরাহ কমে গেলে সুদের হার বৃদ্ধি পায় কেন:
মুদ্রা সরবারহ কমানোর জন্য কেন্দ্রিয় ব্যাংক কিছু নিতি ঘুষনা করেছে,যেমন ঋণে সুদের হারের সীমা প্রত্যাহার। ডলারের একক দাম নির্ধারণ।
অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবারহ হ্রাস করতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রয়োগ করা হয়। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত মূল্যস্ফীতি হ্রাস করতে এই মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে। এটি স্বল্প-মেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করে এবং সেই সাথে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ কমে যায় এবং সুদ হার বেড়ে যায়, এতে ব্যবসায়ীদের বেশি সুদে ঋণ নিতে হয়। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পরে।
মুদ্রাস্ফীতি হলো অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। আর মূল্যস্ফীতি হচ্ছে পণ্য বা সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হল স্বতন্ত্র পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি। এটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমন ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। সরকারী নীতি বা বর্ধিত চাহিদা । মুদ্রাস্ফীতি হল একটি অর্থনীতিতে দামের সাধারণ বৃদ্ধি। এটি পরিমাপ করা হয় পণ্য ও পরিষেবার ঝুড়ির দামের শতকরা পরিবর্তন হিসাবে।
যেমন গত বছর ১ কেজি আটা কিনতে আপনার খরচ হতো ২৫ টাকা। কিন্তু চলতি বছর সেই একই আটার পরিমাণ কিনতে আপনার খরচ পড়ছে ৪০ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ১৫ টাকা বা ৭% বেশি টাকা লাগছে। এই ৭% হল মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ। এর মানে টাকার মানও ৭% কমে গিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় কি?
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন যে,বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংক খাতের ঋণের সুদ হারের নির্ধারিত সীমা তুলে দেয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘নীতি সুদ হার’ বাড়ানো। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও মূল্যস্ফীতির জ্বরে কাঁপছে। আর মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে যে,জুলাই মাস শেষে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গ্রামে এই হার শহরের তুলনায় বেশি।
বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। এক ডলার কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে একশ টাকার অধিক। অর্থাৎ স্থানীয় টাকার মান কমছে আর ডলার দাম গতিতে ছুটছে। ডলার নিয়ে এমন সংকট আগে কখনই দেখা যায়নি দেশে। ফলে ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা চলছে।
ঘাটতি ব্যয়জনিত মুদ্রাস্ফীতি :যখন কোন দেশে যুদ্ধ বা অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় অথবা উন্নয়ন পরিকল্পনার অর্থসংস্থানের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় তখন সরকার ঘাটতি ব্যয়নীতি অনুসরণ করে। এর কারণে দেশে অর্থের যোগান ও দামস্তর বৃদ্ধি পায়। এ ধরনেরও মূল্য বৃদ্ধিকে ঘাটতি ব্যয়জনিত কে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।
ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাক্ষীতি :শ্রমিকের কাঁচামাল, মুজুরি যন্ত্রপাতি এবং উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে দামস্তরের যে ক্রমাগত বৃদ্ধি ঘটে তাকে ব্যায় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে অতি মূল্যস্ফীতি জার্মানির অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। আর এই সময়ে দীর্ঘ বছর ধরে অতি মূল্যস্ফীতির টানা উদাহরণ হচ্ছে জিম্বাবুয়ে। আক্ষরিক অর্থেই দেশটির নাগরিকদের বস্তা ভরে টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে আসতে হয়েছে। তবে এখন লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির দেশ হচ্ছে ভেনেজুয়েলা।
প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত লেখায় ভুল তথ্য থাকলে সঠিক তথ্য জানিয়ে দিবেন ।
আরো পড়ুনঃ